1. [email protected] : শেয়ারবার্তা প্রতিবেদক : শেয়ারবার্তা প্রতিবেদক
  2. [email protected] : muzahid : muzahid
  3. [email protected] : শেয়ারবার্তা : nayan শেয়ারবার্তা
  4. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
তিতাস গ্যাসের সাড়ে ১৮’শ কোটি টাকার হদিস নেই
সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৫১ এএম

তিতাস গ্যাসের সাড়ে ১৮’শ কোটি টাকার হদিস নেই

  • আপডেট সময় : বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়াত্ব প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস গ্রাহকের কাছ থেকে সংযোগ প্রদানের সময় নিরাপত্তা সঞ্চিতি হিসেবে টাকা নেয়। চলতি বছরের জুন শেষে সাত ধরনের গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় এক হাজার ৮৪১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা নিয়েছে কোম্পানিটি। তবে কাগজে-কলমে থাকলেও নিরীক্ষাকালে ওই অর্থের হিসাব মেলাতে পারেনি নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান। যে কারণে ওই তহবিলের স্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শুধু এবারই নয়, প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই তহবিলের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তারপরও পাঁচ বছরেও এ বিষয়ে হালনাগাদ তালিকা তৈরি হয়নি।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, গ্যাস বিপণনকারী দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস সাত ক্যাটেগরিতে গ্যাস সংযোগ দেয়। প্রতিটি সংযোগের জন্য নিরাপত্তা সঞ্চিতি (সিকিউরিটি ডিপোজিট) হিসেবে নির্ধারিত হারে অর্থ নেয়। ওই অর্থ নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়। কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি দায় হওয়ার ওই অর্থ ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) হিসেবে রাখা হয়। দেশজুড়ে স্থানীয় কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রায় ২৭ লাখ গ্রাহকের কাছ থেকে ওই অর্থ নেওয়া হয়েছে।

চলতি পঞ্জিকা বছরের জুন শেষে তিতাসের নিরাপত্তা সঞ্চিতি তহবিলে প্রায় এক হাজার ৮৪১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা জমা হয়েছে, যা এর আগের বছরের একই সময়ে ওই তহবিলের পরিমাণ ছিল প্রায় এক হাজার ৫১৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ, এক বছরে ওই তহবিলের আকার প্রায় ৩২১ কোটি ৬১ লাখ টাকা বেড়েছে। তবে তহবিলের আকার বাড়লেও কয়েক বছর ধরে এ নিয়ে নতুন জটিলতার মুখে রয়েছে তিতাস গ্যাস।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯ সালের জুন শেষ হওয়া আর্থিক বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এক হাজার ৮৪১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা গ্রাহক নিরাপত্তা তহবিলে থাকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তিতাসের বিভিন্ন জোনাল অফিসে হালনাগাদ কাগজপত্র, গ্রাহকভিত্তিক তালিকা বা বিবরণী ও তথ্য-উপাত্ত না থাকায় যাচাই-বাছাই করে ওই টাকার হিসাব মেলাতে পারেননি নিরীক্ষকরা। যে কারণে এবারও তিতাসের ওই তহবিলের অঙ্ক নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও বিষয়টি নতুন নয়। কয়েক বছর ধরেই ওই তহবিল নিয়ে প্রশ্নের মুখে রয়েছে তিতাস গ্যাস।

তিতাস গ্যাসের পরিচালক (অর্থ) মো. শরীফুর রহমান গ্রাহকের কাছ থেকে সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসেবে নেওয়া অর্থের হিসাবে গরমিল প্রসঙ্গে বলেন, ‘গ্রাহকের নিরাপত্তা তহবিলের অর্থের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না, কিংবা নিরীক্ষকরা ওই তহবিলের কাগজপত্র পাচ্ছেন না-বিষয়টি ঠিক এ রকম নয়। আমরা পুরোনো পদ্ধতিতে হিসাব-সংক্রান্ত কাগজপত্র সংরক্ষণ করি। আধুনিকায়নের কাজ এখনও শেষ হয়নি। আমাদের সিস্টেমে এ-সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য না থাকায় নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান যাচাই-বাছাই করতে পারেনি। অঙ্ক ঠিক আছে কি না-তাও মেলাতে পারেনি। এ জটিলতা কাটিয়ে উঠতে আমরা কাজ করছি। হালনাগাদ সব তথ্য কম্পিউটারাইজড সিস্টেমে থাকলে ভবিষ্যতে এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠবে না।’

আর্থিক প্রতিবেদনে তিতাস গ্যাস এর আগে ২০১৩ সালে তিতাসের আর্থিক প্রতিবেদনে গ্রাহকের নিরাপত্তা সঞ্চিতি তহবিলের পরিমাণ প্রায় ৭৬৬ কোটি ছয় লাখ টাকা দেখিয়েছিল। যদিও পরিদর্শনকালে কোম্পানিটির ওই তহবিলে প্রায় ৭৭৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা থাকার প্রমাণ পেয়েছিল তৎকালীন নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান হুদাভাসী চৌধুরী অ্যান্ড কোং। যে কারণে প্রায় ১১ কোটি ৭৭ লাখ টাকার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এরপর থেকেই ওই তহবিলের অর্থের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কাগজে থাকলেও বাস্তবে আছে কি না-সে প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছেন না নিরীক্ষকরা। যার জবাবে ফি-বছর তিতাসের পক্ষ থেকে ‘গ্রাহকভিত্তিক নিরাপত্তা জামানতের হিসাব হালনাগাদ না থাকায় নিরীক্ষার সময় জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ জটিলতা কাটিয়ে উঠতে হালনাগাদ তালিকা তৈরি হচ্ছে’ বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু পাঁচ বছরেও ২৭ লাখ গ্রাহকের জামানতের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি তিতাসের পরিশোধিত মূলধন ৯৮৯ কোটি ২২ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট ৯৮৯ কোটি ২২ লাখ ১৮ হাজার ৮৩১ শেয়ারের মধ্যে সরকারের হাতে রয়েছে ৭৫ শতাংশ শেয়ার। বাকি ২৫ শতাংশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৪ দশমিক ২৪ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে এক দশমিক ৮৫ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে আট দশমিক ৯১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

এদিকে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিগত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে মুনাফা কমে আসছে তিতাস গ্যাসে। ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে প্রতিষ্ঠানটির কর পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৩৩৮ কোটি টাকা। আগের আর্থিক বছরে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ছিল ৫০৬ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ছিল ৭২৯ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে যার পরিমাণ ছিল ৮৮৮ কোটি টাকা।

শেয়ারবার্তা / আনিস

ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার মতামত জানান:

ভালো লাগলে শেয়ার করবেন...

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
DBH

ইজিএম করবে ডিবিএইচ

  • ১ অক্টোবর ২০২২